হোম বিনোদনঢালিউড ‘পাগলামি থেকে চলচ্চিত্রে এসেছি,’ অভিনয়ের ৫০ বছর পূর্তিতে বললেন আলমগীর

‘পাগলামি থেকে চলচ্চিত্রে এসেছি,’ অভিনয়ের ৫০ বছর পূর্তিতে বললেন আলমগীর

প্রতিবেদক সম্পাদকীয়
0 মন্তব্য

বাবা ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’–এর অন্যতম প্রযোজক। মা পুরোদস্তুর গৃহিণী। মা–বাবা কেউ চাননি অভিনয়ে আসুক তাঁদের সন্তান। কিন্তু ১৯৭২ সালের ২৪ জুন ‘আমার জন্মভূমি’ চলচ্চিত্রে শুটিংয়ের মধ্য দিয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান আলমগীর। এরপর কীভাবে যে অভিনয়ের ৫০ বছর পার করে দিয়েছেন, টেরই পাননি। বৃহস্পতিবার তাঁর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে বসে শোনালেন পাঁচ দশকের অভিনয়জীবনের গল্প।

ইউনিভার্সিটিতে পড়ছিলাম। অন্য কোনো পেশায় গেলে হয়তো ভালো ক্যারিয়ারও হতো। কিন্তু ছোটকাল থেকে মাথায় পোকা ছিল। পাগলামিও ছিল সিনেমা নিয়ে। এই অঙ্গনে কাজ করতে গেলে একটু পাগলামি থাকতে হয়। উত্তমকুমার, দিলীপ কুমার, রাজ্জাক ভাই—তাঁদের দেখে দেখে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবতাম, ইশ্, আমি যদি তাঁদের মতো হতে পারতাম। আমার বাবা সেই ১৯৫৬–এর দিকে ‘মুখ ও মুখোশ’-এর ওয়ান অব দ্য প্রডিউসার ছিলেন, এরপর আমার পরিবারের আর কেউ সিনেমার সঙ্গে জড়িত ছিল না। আমি সামহাউ পাগলামি থেকে চলচ্চিত্রে এসেছি। বাবা বেঁচে থাকলে হয়তো ফিল্মে আসতে পারতাম না। যদিও তিনি সিনেমা প্রযোজনা করেছেন কিন্তু পরবর্তীকালে আর এটাকে লাইক করতেন না।

বাবা ভেবেছিলেন, তাঁর বড় ছেলে ডাক্তার হবে। মা ভেবেছিলেন, বড় উকিল হতে পারব। আমি নাকি খুব গুছিয়ে কথা বলতে পারি। আর আমি চেয়েছিলাম, পাইলট হতে। বাস্তবে কোনোটাই হতে পারিনি, আবার পেরেছিও। তবে সেটা চলচ্চিত্রের পর্দায়। আমার মা খুব ঠান্ডা মানুষ ছিলেন। তাঁকে জীবনে কোনো দিন নামাজ কাজা করতে দেখিনি। দুই বেলা কোরআন শরিফ পড়তেন। মায়ের একটা শখ ছিল, আমাদের রান্না করে খাওয়ানো। তিনি ছিলেন পুরোদস্তুর গৃহিণী। যখন বাবা মারা গেলেন, তার এক–দেড় মাস পরই তো ফিল্মে এলাম। মা খালি একবার জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘তুই পারবি?’ বলেছিলাম, আম্মা, চেষ্টা করে দেখি না। তবে আমাকে উৎসাহ দিয়েছিলেন বড় বোন ও তাঁর হাজব্যান্ড। বলেছিল, ‘ছবির নাম যেহেতু “আমার জন্মভূমি”, স্বাধীনতা নিয়ে, দেশের ছবি, ইতিহাস হয়ে থাকবে, করো। তবে একটাই করো। আর না।’

সম্পর্কিত আরও খবর

আপনার মতামত দিন