হোম সারাদেশখুলনা সুনামই ‘কাল’ হলেও সুন্দরবন ছাড়বেন না ‘টাইগার গনি’

সুনামই ‘কাল’ হলেও সুন্দরবন ছাড়বেন না ‘টাইগার গনি’

প্রতিবেদক সম্পাদকীয়
0 মন্তব্য

সুন্দরবনের বীর হিসেবে পরিচিত ‘টাইগার গনি’ সম্ভব হলে গোটা সুন্দরবনকে রেখে দিতে চান নিজের বুকের ভেতর। তিনি যেভাবে শ্বাপদসংকুল বাঘের ডেরা থেকে বনজীবীদের ফিরিয়ে আনেন, সেই গল্প পড়ে পাঠক মুগ্ধ হন। গনি তাঁদের গ্রামের সন্তান বলে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের কালিঞ্চী গ্রামের মানুষের গর্বও কম নয়।

বর্ষাকালে সেদিন দখিনা বাতাস বইছে পশ্চিম সুন্দরবনে। মাথাভাঙ্গা নদী ধরে এগিয়েছিলেন গনি আর তাঁর বাবা বদরউদ্দীন গাজী। জোয়ারে অনেক মাছ উঠেছে জালে। খুশিতে চকচক করছে পিতা-পুত্রের চোখ। তখনই আকাশ কালো হয়ে গেল আষাঢ়ের মেঘে। দমকে দমকে উঠল ঝোড়ো বাতাস। মুহূর্ত মাত্র স্থির থাকা দায়। হাতের পাতা ওলটানোর মতো উল্টে গেল তাঁদের মাছভরা ছোট্ট নৌকাটি।

এখন পর্যন্ত শতাধিক ব্যক্তির মরদেহ ফিরিয়ে এনেছেন গনি। আক্রমণের শিকার ২৬ জনের কাছে গনি পৌঁছেছিলেন তাঁরা জীবিত থাকতেে। এর মধ্যে সুভাষ নামের একজন বেঁচেছিলেন অনেক দিন। বাকিদের বাঁচানো যায়নি অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, ঘটনাস্থল থেকে চিকিৎসাকেন্দ্রের দূরত্বের জন্য। প্রত্যেকের মরদেহ পৌঁছে দিয়েছেন পরিবারের কাছে।

সুন্দরবনঘেঁষা জনপদের সেই হতভাগা বনজীবীদের মা, সন্তান বা স্ত্রী অন্তত শেষবারের মতো দেখেছেন প্রিয়জনের মুখ। বাঘের হামলায় প্রাণ হারানো মানুষটির ক্ষতবিক্ষত শরীরের সামনে দাঁড়িয়ে ছোট দুটো হাত তুলে জানাজার দোয়াটুকু পড়তে পেরেছে সন্তান। শুধু উদ্ধার নয়, দাফন পর্যন্ত সব কাজের তদারকিও গনি নিজে উপস্থিত থেকে করেন।

অনেক সময় মরদেহের অবস্থা এমন হয় যে তাকিয়ে দেখাও কঠিন। গনি যেন এক হাতে ভালোবাসার জিয়ন কাঠি ধরে আরেক হাতে রাখেন নিজের জীবন বাজি।
‘টাইগার গনি’ হিসেবে পরিচিত মানুষটি শুধু বিপদাপন্ন বনজীবীকেই উদ্ধার করেন না, বাঘ সংরক্ষণেও কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। লোকালয়ে চলে আসা অসুস্থ বন্য প্রাণীকে সুস্থ করে আবার ছেড়ে দিয়ে এসেছেন বনে।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে কয়েক বছর ধরে কাজগুলো করতে হচ্ছে বিনা পারিশ্রমিকে। দুঃসাহসী এ মানুষটির বনজীবনের গল্পের আড়ালে রয়েছে প্রতি দিনের অসংখ্য ক্ষত আর না পাওয়ার বেদনা। তাঁর সেই না জানা যাপনের কথা শুনতেই প্রথম আলো কথা বলেছে টাইগার গনি হিসেবে পরিচিত গনি গাজীর সঙ্গে।

গত ১২ মে গনি এসেছিলেন প্রথম আলোর কারওয়ান বাজারের কার্যালয়ে। কেমন আছেন প্রশ্ন শুনেই বললেন, ‘সুনামই আমার কাল হয়েছে।’ সুন্দরবন ছাড়া তাঁর নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তাই উপোস করে হলেও থাকতে হবে বনের কাছেই। এই বনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক জন্ম থেকে। বন থেকে সে কবে বিচ্ছিন্ন ছিল, তাই খুঁজে দেখতে হবে। সেই গল্প বলতে গিয়ে প্রথম আলোকে বললেন ৩৩ বছর আগের এক দুপুরের ঘটনা। গনির বয়স তখন ১১ বা ১২ বছর।

বর্ষাকালে সেদিন দখিনা বাতাস বইছে পশ্চিম সুন্দরবনে। মাথাভাঙ্গা নদী ধরে এগিয়েছিলেন গনি আর তাঁর বাবা বদরউদ্দীন গাজী। জোয়ারে অনেক মাছ উঠেছে জালে। খুশিতে চকচক করছে পিতা-পুত্রের চোখ। তখনই আকাশ কালো হয়ে গেল আষাঢ়ের মেঘে। দমকে দমকে উঠল ঝোড়ো বাতাস। মুহূর্ত মাত্র স্থির থাকা দায়। হাতের পাতা ওলটানোর মতো উল্টে গেল তাদের মাছভরা ছোট্ট নৌকাটি।

সম্পর্কিত আরও খবর

আপনার মতামত দিন