বৃহস্পতিবার, ৭ অক্টোবর ২০২১, ২২ আশ্বি

লালপুরের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ…

লালপুরের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ… - ছবি : মাহ্জুজা ইসলাম

মাহ্জুজা ইসলাম (স্কুল অ্যাম্বাসেডর): জীবনানন্দ দাসের বনলতা সেনের নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার বাঘা-ঈশ্বরদী মহাসড়ক পাশ্বে প্রায় ১.৬৩ একর জমির উপর অবস্থিত “লালপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং কলেজ”। 

১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপিত হওয়ার সময় স্থানীয় জনৈক মো: কফিল উদ্দিনের স্ত্রী খতিমুন্নেসার নাম অনুসারে লালপুর খতিমুন্নেসা ইংরেজি উচ্চ বিদ্যালয় নামে নামকরণ করেন।

পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি লালপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় নামে পুণঃ নামকরণ করা হয়। ২০০৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে পাঠদানের অনুমতি পাওয়ার পর বর্তমানে লালপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং কলেজ নামে পরিচালিত হচ্ছে।

অধ্যায়নরত শিক্ষার্থী এবং শ্রেণি ওশাখা: ষষ্ঠ  (ক) ৯০ জন, ষষ্ঠ (খ) ৮৯ জন, ষষ্ঠ (গ) ৮৮ জন, সপ্তম (ক) ৭০ জন, সপ্তম (খ) ৭০ জন, সপ্তম (গ) ৭০ জন, অষ্টম (ক) ৬৮ জন, অষ্টম (খ) ৬৬ জন, অষ্টম (গ) ৬৬ জন, নবম (ক) বিজ্ঞান ৯০ জন, নবম (খ) মানবিক ও বিজ্ঞান ৯৫ জন, নবম (গ) ভোকেশনাল ৫৬ জন, দশম বিজ্ঞান ৬৮ জন, দশম মানবিক এবং বিজ্ঞান ৮৮ জন, দশম ভোকেশনাল ১০৪ জন, একাদশ, ১৩১ জন দ্বাদশ ১১৯ জন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠাটির ভবন সমূহ: প্রতিষ্ঠানটিতে ১টি তিন তলা, ২টি দুইতলা, ৩টি একতলা পাকা ভবন, ২টি একতলা আধাপাকাসহ ৮টি ভবন রয়েছে। এছাড়া ৩১টি কক্ষের মধ্যে পাঠ্যদানের শ্রেণিকক্ষ রয়েছে ২১টি। আর মোট ৪০৭ জোড়া বেঞ্চ আছে। টেবলয়েট চেয়ার রয়েছে ৭৮টি।

২০১৯ সালে (১ মে) ড. শিরিন রহমানের স্মরণে লালপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং কলেজের পূণঃ সংস্কার করেন ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান।

শিক্ষক ও কর্মচারি সংখ্যা: স্কুল শাখায় ১৬ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ৫ জন কর্মচারি, ভকেশনাল শাখায় ৯ জন ও ৩ জন কর্মচারি এবং কলেজ শাখায় ২০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ৫ জন কর্মচারি কর্মরত আছেন।

গত তিন বছরের বোর্ড পরীক্ষার ফলাফল:

জেএসসি: ২০১৭ সালে পরীক্ষার্থী সংখ্যা ছিল ২১৩ জন পাস করেছে ২০০ জন, জিপিএ পাঁচ পেয়েছে ২৪ জন, পাসের হার ৯৪ শতাংশ।

২০১৮ সালে পরীক্ষার্থী সংখ্যা ছিল ২১৩ জন, পাস করেছে ১৭৯ জন, জিপিএ পাঁচ পেছেন ৯ জন, পাসের হার ৮৪.০৪ শতাংশ।

করোনাভাইরা মহামারির কারণে সর্বশেষ ২০১৯ সালে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২৬৩ জন পাস করেছে ২৪৭ জন জিপিএ পাঁচ ১২ জন শিক্ষার্থী পাসের হার ৯৩.৯২ শতাংশ।

এসএসসি পরীক্ষার ফল: 

২০১৭ সালে ১৫৫ পরীক্ষার্থী, ১৪৪ জন পাস করেন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭ জন, পাসের হার ৯২.৯০ শতাংশ।

২০১৮ সালে ১৭৬ পরীক্ষার্থী, ১৫৭ জন পাস করন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪ জন, পাসের হার ৮৯.২০ শতাংশ।

২০১৯ সালে ২০৮ পরীক্ষার্থী, ১৭৪ জন পাস করেন, জিপিএ- ৫ পেয়েছে ২০ জন, পাসের হার ৮৫.২৯ শতাংশ।

২০২০ সালে ২১৭ পরীক্ষার্থী ৯৩ জন পাস করেন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৫ জন, পাসের হার ৮৮.৯৪ শতাংশ।

কৃতিত্বের স্বাক্ষর: লালপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং কলেজ উপজেলা পর্যায়ে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খেতাব অর্জন করেছে। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০১৮ এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক তপন কুমার রায় শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন। একই বছর উপজেলা পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির সহকারী শিক্ষক জনাব শংকর কুমার শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক নির্বাচিত হন।

জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসা গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা জেলা পর্যায়ে ৫ বার চ্যাম্পিয়ান হয় ২০১৩ সালে রাজশাহী উপ-আঞ্চলিক পর্যায়ে ফুটবল প্রতিযোগিতায় রানার্স আপ হয়। উপজেলা ডিজিটাল মেলা ও ইন্টারনেট সপ্তাহ-২০১৫ লালপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং কলেজ মাধ্যমিক পর্যায়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করে।

এছাড়া ৩য় উপজেলা আন্ত-স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০১৬ গ্রীনভ্যালী পার্ক লিঃ, লালপুর, নাটোর এর পক্ষ থেকে আয়োজিত বিতর্ক উৎসবের গ্র্যান্ড ফিনালে প্রতিষ্ঠানটি তৃতীয় স্থান অর্জন করে। বিভাগীয় পর্যায়ে ৫ বার ফুটবল এবং ১ বার হ্যান্ডবল খেলেছে। বেশ কয়েকবার ফুটবল চেম্পিয়ান হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির ফুটবল টিম। দুদক রাজশাহী অঞ্চল কর্তৃক ২০১৮ সালে স্থাপিত সততা স্টোর চলমান রয়েছে। শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের ১৭টি কম্পিউটারসহ মোট ২০টি কম্পিউটার রয়েছে।           

দৈনিক কার্যক্রম: দৈনিক সমাবেশ সকাল ১০টা থেকে ১০:১৫ পর্যন্ত। পাঠদান কর্মসূচি শুরু হয় ১০:১৫ থেকে ১:০০ টা পর্যন্ত চলমান থাকে। টিফিন (বিরতি) দুপুর ১:০০-২:০০ পর্যন্ত। পুনরায় পাঠদান কর্মসূচি শুরু হয় দুপুর ২:০০ টা থেকে বিকেল ৪:০০ টা পর্যন্ত চলমান থাকে।

শতভাগ স্কুল ড্রেস পরিধান এবং সকল ক্লাস সঠিক ভাবে হচ্ছে কিনা তা প্রধান শিক্ষক ক্লাস ক্যাপ্টেনদের মাধ্যমে মনিটরিং করেন। প্রধান শিক্ষকসহ প্রায় সকল শিক্ষক-শিক্ষীকার সাথে শিক্ষার্থীদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে ফলে যেকোনো সমস্যা শিক্ষার্থীরা নির্দিধায় সেয়ার করতে পারে। বিভিন্ন দিবস, প্রাতিষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শত ভাগ উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

প্রতিষ্ঠানটি ১৯৭৪ সালে এমপি ভুক্ত হয়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে কলেজ   শাখা এমপিভুক্ত করা হয়। নাটোর জেলা পরিষদ কর্তৃক ২০২০ সালে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়।                           

বর্তমান সমস্যা: বিদ্যালয়টিতে পয়:নিষ্কাষণ ব্যবস্থা এবং সুপেয় পানির সমস্যা রয়েছে। এছাড়া প্রতিবছর এই প্রতিষ্ঠান থেকে গুটিকয়েক শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষার আলো পেলেও। বর্তমানে অধ্যায়ণরত শিক্ষার্থীদের থেকে যে ফলাফল আশা করা যায় সেই কাঙ্খিত ফলাফল শিক্ষার্থীরা করতে পারে না।

এ সমস্যার মূল কারণ হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো গ্রন্থাগার নেই যা থেকে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবই এর পাশাপাশি সহায়ক বিভিন্ন ধরনের বই পড়ে নিজেদের জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যত তৈরি এবং জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে গ্রন্থাগার স্থাপন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিবেদক: মাহ্জুজা ইসলাম

(দশম শ্রেনির শিক্ষার্থী)

নাটোর জেলার শিক্ষানবিশ অ্যাম্বাসেডর                                                      

তথ্য সূত্র: লালপুর পাইলট বালিকা হাই স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক তপন কুমার রায়

                                                                                              

                                                 

আরো সংবাদ


AD HERE